জাষ্ট একটা র্যান্ডম ছবি। একজন ২০ বছরের তরুন ফুটবলার একটা চ্যারিটির জন্য এক নবজাতককে কোলে নিয়ে ছবি তুললেন।
বার্সালোনার সাথে ইউনিসেফের একটা যৌথ চ্যারিটির অংশ হিসেবে খেলোয়াড়রা বাচ্চাদের সাথে ছবি তুলবে আর সেগুলো দিয়ে ক্যালেন্ডার হবে।
কাতালোনিয়ার শত শত বাচ্চার বাবা-মা আবেদন করলেন। মরক্কোর মুসা ইয়ামাল আর ইকুটেরিয়াল গিনির ইয়ায়ি বায়াম কাতালুনিয়াতেই সংসার পেতেছেন। তাঁদের শখ তাদের ছোট বাচ্চাটার সাথে বার্সালোনার তারকারা ছবি তুলুক। লটারিতে জিতেও গেলেন এই দম্পতি।
এর কিছুদিন পর, ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে তাঁরা দাওয়াত পেলেন ক্যাম্প নূতে। দুই ফটোগ্রাফার জোয়ান মন্তফোর্ত আর অরিয়ন কানাল তাঁদের চারমাস বয়সী বাচ্চাকে লামিনকে নিয়ে ছবি তোলার জায়গায় যেতে বললেন। ওদের জানানো হলো, লামিনের সাথে যিনি ছবি তুলবেন তিনি ২০ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন লিওনেল মেসি। সে দলের সবচেয়ে লাজুক ছেলে হলেও লা মেসিয়ার অন্যতম সেরা প্রতিভা।
লাজুক ছেলেটা জানালো, জীবনে এর আগে নাকি সে কখনো বাচ্চা কোলে নেয়নি। এই শুনে ছোট্ট লামিনের বাপমা বেশ একচোট হাসলেন, কে জানে হয়তো একটু শংকিতও হলেন। অনেকগুলো ছবির মধ্যে একটা ছবি ছোট্ট লামিলকে গোসল করিয়ে দিচ্ছেন সদ্য টিনেজ পেরোনো মেসি।
এর সাড়ে ষোল বছর পর যখন এই কথাগুলো লেখা হচ্ছে, তদ্দিনে ফুটবলপ্রেমীরা এই দুইজনকে চিনে গেছেন। যদি এই ছবিটা না থাকতো, তবে বেশিরভাগ এই ছবির বিবরণটাকে অতি কল্পনা বলে উড়ায়ে দিতেন নিশ্চিত!
যাহ! এইরকম হয় নাকি!
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এক দেবতা নিজ হাতে গোসল করিয়ে দিচ্ছেন এক ভবিষ্যত দেবদূতকে। খ্রিষ্টীয় বিশ্বাসে ব্যাপটিজম বলে একটা ব্যাপার আছে, যেখানে একজন পাদ্রী, গোসল করিয়ে বাচ্চাকে পবিত্র ঈশ্বরের সন্তান বলে গ্রহণ করেন। অন্যন্য আব্রাহামিক ধর্মেও রিচুয়াল গোসল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফুটবলের গল্পে বহু লেখক অতিপ্রাকৃতের আলাপ করেন, ধর্মীয় রিচুয়াল আর মেটাফরের তুলনা দেন, কিন্তু এই যে ছবিটা, এর যে গল্পটা, তাঁকে অবিশ্বাস্য বললে কম বলা হয়।
লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির আঁকা ব্যাপটিজম অফ ক্রাইস্ট পেইন্টিং জগতের এক বিস্ময়, ফুটবলের ব্যাপটিজম অফ লামিন সেই বিস্ময়কে ছাপিয়ে গেলো বহুগুনে।
এইরকম সময়ে ট্রুথ ইজ স্ট্রেঞ্জার দ্যান দ্যা ফিকশন কথাটাকেও অত্যন্ত অপ্রতুল মনে হয়।